ছত্রপতি শিবাজী মুঘল বাদশাদের পরাস্তকারী হিন্দু যোদ্ধা।

পরাক্রমশালী ছত্রপতি শিবাজী

ভারতে সময় সময়ে অনেক মহাপুরুষ জন্ম নিয়েছিল। ছত্রপতি শিবাজী ও তাদের মধ্যে একজন। শিবাজী ( Chhatrapati Shivaji ) এর জন্ম ১০ এপ্রিল ১৭২৭ সালে হয়েছিল। ওনার বাবার নাম শাহজী ও মাতার নাম জিজাবাঈ ছিল। জিজাবাঈ এর ঈশ্বর এর প্রতি অটুট ভক্তি ছিল। এই কারনে তার ছেলের নাম শিবাজী রেখে ছিল। শিবাজীর শিক্ষার দায়িত্ব একজন যোগ্য এবং অনুভবি দাদাজী কোণ্ডদেব কে দেওয়া হয়েছিল।

ছত্রপতি শিবাজী মুঘল বাদশাদের পরাস্তকারী হিন্দু যোদ্ধা।
ছত্রপতি শিবাজী মুঘল বাদশাদের পরাস্তকারী হিন্দু যোদ্ধা।

বীরত্বপূর্ণ এবং পরাক্রমশালী

শিবাজী ( Chhatrapati Shivaji ) ছোটবেলা থেকেই সৌখিনতা প্রিয় ছিল। তার মা এবং তার গুরু তাকে বীরত্বের পাঠ পরিয়েছিল। ২০ বছর বয়সে শিবাজী একজন বীর যোদ্ধা হয়েগিয়েছিল। তিনি তার তিন ছেলেবেলার বন্ধু ও এক হাজার সিপাহী নিয়ে বিজাপুর এর প্রসিদ্ধ দুর্গ "তৌরণ" এ আক্রমণ করে দখল করে নেয়। সেখান থেকে কিছু দূরে "রাজগড়" নামের এক দুর্গ বানায় এবং সেখানে অনেক বড় সেনার দল গঠন করে।আসে পাসের অনেক দুর্গ সিবাজী এই ছোট বয়সে দখল করে নেয়। তিনি যুবকসমাজ এর এক আশার কেন্দ্র হয়ে দাড়ায়।

আফজাল খান এর মৃত্যু

বিজাপুর এর সুলতান শিবাজী কে মারার জন্য অনেক জাল বিছিয়ে ছিল, কিন্তু শিবাজী ও কাঁচা খেলোয়াড় ছিল না। রাজবীর তো ছিলই ,নীতিবিদ ও ছিল। সেইসময় দিল্লির সিংহাসন অরঙ্গজেব বসেছিল। সেও রাজা কে শত্রু ভাবত আর তাকে মারার জন্য অনেক চাল করতে লাগল, কিন্তু সফল হয়নি। মুঘল সেনাপতি আফজাল খান বারো হাজার সৈন্য নিয়ে শিবাজী ( Chhatrapati Shivaji ) কে আক্রমণ করে দিয়েছিল। এক দুটো দুর্গ জেতার পর শিবাজী কে মারার জন্য একটা জাল বিছায় এবং শিবাজী র সঙ্গে দেখা করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করে। শিবাজী বুঝে যায় এবং দেখা করার সময় আফজাল খান কে মেরে ফেলে। সেনার সাথেও যবরদস্ত যুদ্ধ হয় এবং শিবাজী জিতে যায়। শিবাজীর পতকা "প্রতাপগড়" এর আকাশে উড়তে লাগে।


শায়েস্তা খান এর মুখোমুখি

আফজাল খান এর মৃত্যুতে দিল্লি-র বাদশারা আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল। অরঙ্গজেব এর অবস্তা খারাপ হয়ে যায়। সে শায়েস্তা খান তথা জসবন্ত সিং কে এক বিশাল সেনার সাথে শিবাজী কে আক্রমণ করার জন্য পাঠায়। রাজা কে এই বিশাল সেনার আগে হারতে হয়েছিল। এবং দুই বছর ছোট ছোট যুদ্ধ হতে থাকে। রাজা সুজোগ পেলে মুঘল সেনাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ত ,কিন্তু তেমন কোন সফলতা পান নি।
পুনাতে শায়েস্তা খান এর রাজ্য ছিল। মুঘল সেনারা পুনার দুর্গ তে হুল্লোড় নিয়ে ব্যাস্ত ছিল।



নীতিবিদ শিবাজীর পুনা তে প্রবেশ

কিন্তু রাজা চুপ থাকার লোক ছিলেন না, রমজান মাসে রাত ১২ টার সময় রাজা সহ চারশো লোক দুর্গের মধ্যে প্রবেশ করে। আওয়াজ শুনে লোকেরা শায়েস্তা খান কে জাগায়। সে ভাল করে উঠেই নি এই সময় শিবাজী ( Chhatrapati Shivaji ) মাথার কাছে এসে পরে, ঠিক তখুনি কেও আলো নিভিয়ে দেয়। অন্ধকারে শায়েস্তা খান পালিয়ে গেল এবং পালাবার সময় টার আঙুল শিবাজীর তলোয়ার এ কেটে যায়। শায়েস্তা খান এর ছেলেও মারা গেল। পুনের দুর্গ তে পাখিও ঢুকতে পারত না সেখানে শিবাজী টার বুদ্ধি দিয়ে তার সাথীদের নিয়ে বেশ বরযাত্রী হিসাবে বদলে নগরে প্রবেশ করে। এই জীত এর পর দক্ষিণ এর হিন্দু শিবাজী কে অজয় বলে সম্বোধন করে। শিবাজী অনেক বড় বীর এবং রাজনীতিবিদ ছিল।

কারাগার থেকে বাইরে

একবার দিল্লির বাদশাহ অরঙ্গজেব ভুলবশত রাজা কে ধরে নিয়েছিল। শিবাজী "যে যেমন তার সাথে তেমন"এই নীতি প্রয়োগ করে। তিনি জেল থেকে বাইরে বেরোনোর আগ্রহ ছেরে দিল। পাহারাদার দের নজর তার থেকে কম হতে লাগল। শিবাজী জানত অরঙ্গজেব এর শাসন এ এমন অনেক লোক আছে যারা তার বিরোধী , এর মধ্যে অরঙ্গজেব এর পত্নী ও ছিল। এই ভাবে ওইসব কে শিবাজী নিজের জালে ফাসায় , এবং অরঙ্গজেব এর পাহারাদার দের চকমা দিয়ে জেল থেকে পালায়। বাঘ খাঁচা থেকে পালিয়ে যায়। এর থেকে শিবাজী র চতুরতা এবং নীতিবিদ এর পরিচয় পাওয়া যায়।

 সিংহগড় এর বিজয়

শেষপর্যন্ত রাজার বাড়ন্ত শক্তি দেখে অরঙ্গজেব রাজার সাথে চুক্তি করে নেয়। শিবাজী র সাথে পুনা, চাকণ , সুপা ইত্যাদি সব মিলে গেল। সিবাজীর বাল্য বন্ধু তানাজী মালখুরে এর সহায়তায় এক বিশাল সেনার দল গঠন করে সিংগড় এর প্রসিদ্ধ দুর্গ কে দখল করে নেয়।


রাজ্যাভিষেক

শিবাজীর রাজা হিসাবে রাজ্যাভিষেক হয়, তিনি তার পরাক্রমশালী বলে তার রাজ্য অনেক দূর বিস্তার করে। রাজার ভাগ্য সূর্য শিখরে পৌছে গিয়েছিল। তিনি আমাদেরে দেশবাসির মধ্যে সবাভিমান উৎপন্ন করে। সব ধর্মের তিনি সম্মান করতেন।

মৃত্যু

১৬৮০ খ্রি এর মার্চ মাসে শিবাজী এক লড়াই থেকে এসে অসুস্থ হয়ে পরে। অনেক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছিল না। শেষে সাত দিন পর ৭ এপ্রিল ১৬৮০ সালে মহারাষ্ট্রের সূর্য অস্ত গেল।

আরো পড়ুন ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের রাজ্যাভিষেক।


Previous
Next Post »