Durga নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।

Durga নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।

কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় আরণ্যকের অন্তর্গত নারায়ণ উপনিষদে প্রথম ‘Durga’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। যাজ্ঞিকা উপনিষদক্তো ‘দুর্গি' শব্দটিও Durga শব্দের অভিন্ন রূপ বলে পণ্ডিতেরা মত প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় Durga’ শব্দটি অতিশয় প্রাচীন।

দুর্গা নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।
দুর্গা নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।

Durga নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থশাস্ত্রবচনে বলা হয়, ‘দ’ বর্ণটি দৈত্যনাশক, ‘উ’ বিঘ্ননাশক, রেফ-অর্থে রােগগ্ন, ‘গ’ কার পাপগ্ন এবং ‘আ’-কার ভয়শত্রুঘ্ন। দৈত্য, বিঘ্ন, রােগ, পাপ, ভয় ও শত্রু হতে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা ।‘শব্দকল্পদ্রুম’-এ বর্ণিত আছে --

দৈত্যনাশার্থবচনাে দকারঃ পরিকীর্তিত।
উকারাে বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মতঃ।।
রেফো রােগঘ্নবচনাে গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ।
ভয়শত্রুঘ্ননশ্চাকারঃ পরিকীৰ্ত্তিতঃ ।। 
স্মত্যুক্তিশ্রবণা যস্যা এতে নশ্যন্তি নিশ্চিতম্। 
ততাে দুর্গা হারেঃ শক্তিহরিণা পরিকীৰ্ত্তিত৷৷৷ 
দুর্গেতি দৈত্যবচনােই প্যাকারাে নাশবাচকঃ।
দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা।।
বিপত্তিবাচকো দুর্গশ্চাকারাে নাশবাচকঃ। 
তং ননাশ পুরা তেন বুধদুর্গা প্রকীৰ্ত্তিতা।।

তাছাড়াবলা যায়, দুর্গ’শব্দটি দৈত্যবাচক এবং ‘আ’-কার শব্দটি নাশবাচক। যিনি ‘দুর্গ’ নামক অসুরকে নাশ করেন তিনিই Durga। এমনকী ‘দুর্গ’ শব্দটি বিপত্তিবাচক, ‘আ-কার শব্দটি নাশবাচক অর্থাৎ বিপত্তারিণী দেবীই Durga।

‘স্কন্দপুরাণ মতে রুরুদৈত্যের পুত্র দুর্গাসুরকে বধ করায় বিশ্বলােকে দেবী Durga নামে অভিহিত হয়েছেন। মহাদেবের নিয়ােগক্রমে তিনি এই অসুরকে বধ করেছিলেন। শ্রীশ্রী চণ্ডীতে দেবী স্বমুখে বলেছেন

“তত্রৈব চ বধিষ্যামি দুর্গমাখ্যং মহাসুর। 
দুর্গা দেবীতি বিখ্যাতং তন্ম নাম ভবিষ্যতি।।”

অর্থাৎ দুর্গম নামক মহাসুরকে বিনাশ করে আমি প্রসিদ্ধ হব Durga Devi নামে। অন্যদিকে, যা দুঃখ বা দুর্গতি তাই দুর্গ; আর যিনি সর্ববিধ দুঃখ-দুর্গতি ও ভয় হরণ করেন তিনিই Durga।


“দুর্গাসি দুর্গম। ভবসাগর নৌবসঙ্গা।”

ব্যাকরণগত সূত্রে Durga শব্দের অর্থ দাঁড়ায় দেবীর তত্ত্ব অতি অগম্য বা দুয়ে বলেই তিনি Durga। দুর + গম্ (কর্মবাচ্যে) + ড (স্ত্রীলিঙ্গে) আ প্রত্যয় যােগ করে পাওয়া যায় 'Durga' শব্দটি। শ্রীশ্রী চণ্ডীতে দেবী Durga শ্রীশ্রী চণ্ডীগ্রন্থে সাতশত মন্ত্র ও পাঁচশত আটাত্তরটি শ্লোক বিদ্যমান। এই সংখ্যক মন্ত্র থাকায় এই গ্রন্থটি -- ‘সপ্তশতী চণ্ডী’ নামে পরিচিত। এই গ্রন্থে দেবীতত্ত্বের সামগ্রিক রূপ ফুটে উঠেছে। শ্রীশ্রী চণ্ডীতে দেবী নিত্যা। তিনি জগন্মুর্তি, সর্বব্যাপিনী, তথাপি দেবগণের কার্য সিদ্ধির জন্য তিনি আবির্ভূত হন। তিনি অসুরশক্তির বিনাশ করে শুভশক্তির প্রকাশ ঘটান। তাই তিনি বলেছেন

ইথং যদা যদা বাধা দানবােথা ভবিষ্যতি।।
তদা তদাবতীৰ্যাহং করিষ্যাম্যরিসংক্ষয়ম্।।(শ্রীশ্রী চণ্ডী)

দেবী Durga প্রভূতভাবে জগতের কল্যাণকারী তাই তিনি জগজ্জননী। ধর্ম-অর্থ-কাম ও মােক্ষদান করেন বলেই তিনি সর্বকামার্থদায়িনী। তিনি বিশ্বলােকের অন্নদাতা, তাই তিনি অন্নদ। রুদ্রের ঘরনি বলেই তিনি রুদ্রাণী। শত অক্ষির দ্বারা বিশ্বচরাচরের সকল কিছু লক্ষ করেন বলেই তিনি শতাক্ষি। তিনি পরম বৈষ্ণব বলেই (তিনি) বৈষ্ণবী। অঙ্গকান্তি গৌরবর্ণাহেতু তিনি গৌরী। পর্বত দুহিতা তাই পার্বতী। দেবতা-মুনি-ঋষির আখ্যায়িকার তিনি বহুদ্ধ-বিশ্বরূপা। শ্রীশ্রীদুর্গাদেবীর অষ্টোত্তর শতনামে তাই বর্ণিত আছে

“নারায়ণ নাম রাখে সর্ববিশ্বোদরী।
 শুভকার্যে সকলেই কহে শুভঙ্করী।।
দেবলােকে নাম তব হইল উর্বশী।
আর এক রূপের নাম হইল যােড়শী।। 
শ্ৰীমন্ত নাম ছিল কল্যাণী কমলে। 
গায়ত্রী নাম তব কহেন পাতালে।”


লিখেছেনঃ মেঘদূত ভুই


Previous
Next Post »

2 comments

Click here for comments