ক্যানসার থেকে দূরে থাকতে যেসব খাদ্য বর্জন করা উচিত।

ক্যানসার থেকে দূরে থাকতে যেসব খাদ্য বর্জন করা উচিত।

মানবদেহে একশাের বেশি রকমের ক্যানসার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।ঠিক কী কারণে ক্যানসার হয় তা এখনও নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সাধারণ কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইজন্য তারা বিভিন্ন রকমের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ক্যানসার থেকে দূরে থাকতে যেসব খাদ্য বর্জন করা উচিত।
ক্যানসার থেকে দূরে থাকতে যেসব খাদ্য বর্জন করা উচিত।


মাইক্রোওয়েভ পপকর্নঃ

ভুট্টার তৈরি খই বা পপকর্ন যে কখনও মারণব্যাধি ক্যানসারের কারণ হতে পারে কোনও দিন হয়তাে কেউ কল্পনা করতে পারেনি। কিন্তু সত্য হলাে, এই পপকর্ন স্বাস্থ্যের জন্য বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। প্রথমে বলা যেতে পারে পপকর্ন রাখা ব্যাগের কথা। এই ব্যাগে থাকা বিষাক্ত পাররাে অক্টায়নিক অ্যাসিড় মানবদেহে জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

নন অর্গানিক ফলঃ

বিভিন্ন ধরনের নন অর্গানিক ফল ফলাদিতে বিশেষ করে আর্টাজিন, থায়াড়িকা এবং অর্গানাপসফেটসে উচ্চ নাইট্রোজেন থাকে। কটিনাশক বারাসায়নিক সার হিসেবে ব্যবহৃত ইউরিয়াও খাবারে ব্যবহার করা হয়। এগুলাে ক্যানসারের কারণ।

রেডিমেড খাবারঃ

বাস্তবিক অর্থে বেশিরভাগ প্যাকেটজাত খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এসব খাদ্য বিশনেপল এ বাবিপিএ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। রেডিমেড টমেটো টিনজাত টমেটোও এর আওতায় রয়েছে। ২০১৩ সালে জাতীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির এক গবেষণায় জানা যায়, বিপিএ শরীরে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে, ব্রেনেও যার প্রভাব পড়ে। অধিক অল্প টমেটো খুব বিপজ্জনক।

প্রক্রিয়াজাত মাংসঃ 

মাংস প্রক্রিয়াকরণে বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ মেশানাে হয়ে থাকে। এর মধ্যে হট ডগ, বেকন সহ বিভিন্ন ধরনের মাংসের প্যাকেট রয়েছে। এসব খাদ্য ক্যানসারের মতাে রােগের সৃষ্টি করে।

চাষ করা স্যালমনঃ 

মাছ স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। কিন্তু এই মাছটি ত্যাগ করা উচিত। চাষের সময় এই মাছে কৃত্রিম খাদ্য ও রাসায়নিক সার, কীটনাশক দেওয়া হয়।

পটেটো চিপসঃ

পটেটো চিপস খুবই রুচীকর খাদ্য হলেও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অতিরিক্ত লবণ ও স্মােকিং ফুডঃ

খাদ্য সংরক্ষণে নাইট্রেড বা নাইট্রেস ব্যবহার করা হয় তা থেকে এবং ধূমপান ও নন নাহাট্রেসাে সমৃদ্ধ খাবারের কেমিক্যাল ক্যানসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। পুড়িয়ে অথবা ভেজে তৈরি করা খাবার কিংবা বাদাম স্মােকিং ফুড হিসেবে পরিচিত। মাংসের তৈরি অনেক খাবারে প্রচুর চর্বি ও লবণ থাকে। আচারেও বেশি পরিমাণে লবণ থাকে। এসব খাবার কোলেস্টেরল। ক্যানসার এবং পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রক্রিয়াজাত আটাঃ

আটা শর্করা জাতীয় খাবার যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত সাদা আটা খুবই ক্ষতিকর। রিফাইনের ফলে এই আটা তার পুষ্টিগুণ হারিয়ে ফেলে। আটার মিলগুলাে আটা সংরক্ষণের জন্য ক্লোরাইন গ্যাস নামে। একপ্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার করে যা খুবই ক্ষতিকর।


পরিশােধিত চিনিঃ

পরিশােধিত চিনির ঝুঁকি বিস্তর। এই চিনি স্থূলতার জন্য দায়ী। পরিশােধিত চিনি নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছাড়াও ক্যানসার সেলের জন্ম দিচ্ছে।

কৃত্রিম চিনিঃ 

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রােগী চিনির বিকল্প হিসেবে আর্টিফিসিয়াল সুইটেনার্স বা কৃত্রিম চিনি খান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কৃত্রিম চিনি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় সােডা ও কফি সুইটেনার্স। এতে ডায়াবেটিস বৃদ্ধিসহ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অ্যালকোহলঃ

অতিমাত্রায় মদ্যপানের কারণে ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রেডমিটঃ 

লাল মাংস স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। প্রাণঘাতী ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। গবেষণায় জানা গিয়েছে, লাল মাংসে এন নিট্রাসােড়িয়েথিলামিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এর মাত্র ০,০০০০৭৫ শতাংশ গ্রামই শরীরে ক্যানসার সৃষ্টির পক্ষে যথেষ্ট। লাল মাংসে থাকা উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল অন্ত্র ও পাকিস্থলীর ক্যানসার সংক্রমণে কাজ করে।

ডাঃ প্রকাশ মল্লিক
(লেখক হােমিওপ্যাথিক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ)



Previous
Next Post »