উত্তম পানীয় মধু।মধুর উপকারিতা।

উত্তম পানীয় মধু। মধুর উপকারিতা।


মধু সুমিষ্ট, উপাদেয় ও পুষ্টিকারক শক্তি উৎপাদক যত রসায়ন আছে, তার মধ্যে মধু সর্বপ্রধান। প্রধানত এর উপাদান চিনি ও জলীয় পদার্থ। লাক্রোজ, ক্লোরাইন ও গামও কিছুটা আছে। মিশ্রণাকারে সিলিকা, আয়রন, কপার, ক্লোরাইন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ফসফরাস,সালফার, অ্যালুমিনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম আছে। মধুর মধ্যে যে চিনি আছে তা  পরিপাক কার্যে সহায়ক হয়। তা সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যায়।

উত্তম পানীয় মধু।মধুর উপকারিতা।
উত্তম পানীয় মধু।মধুর উপকারিতা।

গরমের দিনে এক গেলাস ঠাণ্ডা জলের সঙ্গে কিছুটা মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি সরবত বেশ আরামপ্রদ। কনকনে শীতের সময় এক গেলাস গরম জলের সঙ্গে কিছুটা মধু মিশিয়ে খেলে শীত ভাব কেটে যায়। এক কাপ চায়ের সঙ্গে দুই চামচ মধু ও একটু লেবুর রস মিশিয়েও খাওয়া যায়। রাত্রে শােয়ার সময় এক গেলাস ঠাণ্ডা জলের সঙ্গে কিছুটা মধু মিশিয়ে খেলে ভালাে ঘুম হয়।

মৌমাছি মধু তৈরি করে। এছাড়াও অন্যান্য দিক থেকে এরা আমাদের অনেক উপকার করে থাকে। নানাভাবে এরা আমাদের পুষ্টির সহায়তা করে। মৌমাছিরা সাধারণত আমাদের যে উপকার বা সেবা দিয়ে থাকে তা হলাে ফুলে ফুলে পুষ্পরেণু বহন করে পরাগমিলনে সাহায্য করা। মধুর চাইতেও এর মূল্যায়ন বেশি। পরাগ মিলনের জন্য মৌমাছিরা সবচেয়ে উত্তম।

ওষুধ হিসেবে মধুর ব্যবহার বহু এবং বিবিধ। সাধারণত ঠাণ্ডা এবং কাশি ও কফের প্রতিষেধক হিসেবে শীতের সময় এক চামচ মধু গৃহস্থ মাত্রেই ব্যবহার করে থাকে। জিহ্বার ক্ষতে, অন্ত্রের ক্ষতে এবং বহুমুত্র রােগে শরীরে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার (অ্যালার্জি)। নিরাময়ক হিসেবে মধুর ব্যবহার খুবই
হয়ে থাকে। মধু রােগ জীবাণু নাশক এবং টাইফয়েড ডিসেন্ট্রিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শিশুদের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। কারণ মধু অল্প সৃষ্টি করে না ও উত্তেজনাকারকও নয়। ম্যাজমাস, ম্যালনিউট্রিশনের চিকিৎসায় এবং তজ্জাতীয় অবস্থায়ও মধু ব্যবহার করা হয়।

কেউ যদি মধুর জন্য মৌমাছি পালন করে, তবে তা থেকে উপজাত যা পাওয়া যাবে তাও লাভজনক। তার মধ্যে মােম খুবই মূল্যবান। নানা শিল্পে মােম বহুভাবে ব্যবহার করা হয়। ফর্মাসিউটিক্যাল, কসমেটিক এবং রং শিল্পে মােম বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। মৌমাছির আর একটি উপজাত হলাে এর বিষ (বি ভেনম)। প্রাকৃতিক চিকিৎসায় এর গুরুত্ব খুবই। বাত, সংক্রামক ব্যাধি ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় খুবই উপকারী। অ্যান্টিবায়টিক গুণসম্পন্ন বালে ব্রঙ্কিয়েল অ্যাজমা ও একজিমার চিকিৎসায় বিশেষ উপকারী।

মধু নানা প্রকারের হয়। তার ব্যবহারও হয় বিভিন্ন ভাবে। প্রতিটি প্রকারের মধ্যে মিষ্টত্ব ও অন্যান্য বিষয়ে তফাত আছে। এই সম্পর্কে সুশ্রুত সংহিতায় বিশদ ভাবে উল্লেখ আছে। প্রাচীন আয়ুর্বেদে শল্য চিকিৎসায় এর বহুল ব্যবহারের উল্লেখ আছে। আলসার ও চোখের রােগেও মধুর ব্যবহার আছে। মধু ক্ষুধাবর্ধক।

(লেখক প্রাকৃতিক চিকিৎসক)

Previous
Next Post »