কমলাক্ষ ও জলেশ্বর শিব মন্দির।

কমলাক্ষ ও জলেশ্বর শিব মন্দির।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের তিন প্রভু হলেন শ্রীচৈতন্যদেব, নিত্যানন্দ ও অদ্বৈতাচার্য। এনাদের মধ্যে অদ্বৈতাচার্যের সাধনপীঠ ছিল নদীয়া জেলার শান্তিপুরের কাছে গঙ্গতীরে  বাবলা গ্রামে। এখনও অনতিদূরে গঙ্গার পুরনাে খাত চোখে পড়ে। বাবলায়। এখনও অদ্বৈতাচার্যের শ্রীপাট অবস্থিত। এই শ্রীপাটের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী সম্প্রদায়ের সীতানাথ দাস।

কমলাক্ষ ও জলেশ্বর শিব মন্দির।
কমলাক্ষ ও জলেশ্বর শিব মন্দির।

অদ্বৈতাচার্যের প্রকৃত নাম কমলাক্ষ। বৈষ্ণবদের কাছে তিনি মহাবিষ্ণুর  অবতার। বেদ-উপনিষদ-গীতা ইত্যাদি শাস্ত্রে পারঙ্গম হয়ে তিনি বেদপঞ্চনন্দ ও অদ্বৈতাচার্য উপাধিতে ভূষিত হন। শােনা যায়, তারই কাতর প্রার্থনায় নবদ্বীপে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব। এহেন অদ্বৈতাচার্যের তিরােভাবের পর তার কাঠের দুটি পাদুকা ও কমণ্ডলু হারিয়ে যায়। পরবর্তীকালে তার বংশধর প্রভুপাদ বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামী সদলবলে হরিসংকীর্তন করতে করতে শ্রীপাট এলে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। কোথা হতে একটা কুকুর হঠাৎ বিজয়কৃষ্ণের সামনে এসে হাজির হয়। লেজ নাড়তে নাড়তে কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করে। যেতে যেতে মাঝে মাঝে পিছনে ফিরে তাকায়। এটা কোনও ইঙ্গিত বা সংকেত বিবেচনা করে বিজয়কৃষ্ণও সদলবলে তার পিছু পিছু হাঁটা দেন। খানিকটা পথ চলার পর গাছপালা ঘেরা জায়গায় এসে গড়াগড়ি দেয় এবং মুখ ঘষতে থাকে। সেই দৃশ্য দেখে বিজয়কৃষ্ণ তাঁর সঙ্গীদের সেখানে মাটি খুঁড়তে বলেন। মাটি খুঁড়তেই পাওয়া যায় অদ্বৈতাচার্যের কমলাক্ষ নামাঙ্কিত পাদুকা ও কমণ্ডলু। সেগুলি তৎক্ষণাৎ শ্রীপাটে সংরক্ষিত করা হয়।

বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামী যখন শান্তিপুরে থাকতেন, তখন একবার ওই অঞ্চলে নিদারুণ খরা হয়। খরায় স্থানীয় মানুষ। যত্রতত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন শান্তিপুরের অধিবাসীরা বিজয়কৃষ্ণের কাছে এমন অনাবৃষ্টির থেকে পরিত্রাণের জন্য কাতর প্রার্থনা জানায়।

শান্তিপুরের মতিগঞ্জ-বেজপাড়ায় জলেশ্বর নামে এক বিখ্যাত চারচালা শিবমন্দির রয়েছে। নদীয়ারাজ রুদ্র রায়ের এক রানি ১৮ শতকে শিবলিঙ্গ ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন (মতান্তরে প্রতিষ্ঠাতা নদীয়ারাজ রাঘব রায়)। তখন তিনফুট কালাে পাথরের শিবলিঙ্গের নাম  ছিল রুদ্রকান্ত ও রাঘবেশ্বর। অনাবৃষ্টির প্রকোপ থেকে জনসাধারণকে বাঁচাতে বিজয়কৃষ্ণ শিষ্যদের সঙ্গে শিবলিঙ্গের মাথায় ঘড়া ঘড়া গঙ্গাজল ঢালতে লাগলেন। শিবের মাথায় গঙ্গাজল পড়তেই আচমকা তুমুল বৃষ্টি নামল। জনসাধারণ ধন্য ধন্য করতে লাগল। তখন থেকে শিবলিঙ্গের প্রাচীন বদলে নতুন নাম হলাে জলেশ্বর।।

লিখেছেনঃ জলভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

Previous
Next Post »