তুলসীমঞ্চ ছাড়া হিন্দু বাঙালির গৃহস্থালী অসম্পূর্ণ

তুলসীমঞ্চ ছাড়া হিন্দু বাঙালির গৃহস্থালী অসম্পূর্ণ

চূড়ামণি হাটি শঙ্খচুড় দৈত্য। কিন্তু দৈত্য বিনাশ প্রয়ােজন। এদিকে ব্রহ্মার বরে স্ত্রীর সতীত্ব গুণে শঙ্খচূড় অমর। নারায়ণ ছল করে শঙ্খচূড়ের ছদ্মবেশ নিয়ে শঙ্খচূড়ের স্ত্রীর সতীত্ব নষ্ট করেন। এর ফলে শিবের ত্রিশূলে শঙ্খচূড় বধ সম্ভব হলাে। এক খণ্ড মাসে লেগে থাকা ত্রিশুল শিব সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। শিবের ইচ্ছেয় সেই মাংস টুকরােই শঙ্খ ও হিন্দু রমণীর সতীত্বের অংশ হলাে। এদিকে লজ্জা ঘৃণায় শঙ্খচূড়ের স্ত্রী তুলসীগাছের রূপ নিল। বলাবাহুল্য রাম ও কৃষ্ণ কাহিনির সাথে জড়িয়ে আছে আরও দুটি কাহিনি। একটিতে রামচন্দ্র তুলসীগাছকে প্রশ্ন করেছিলেন পিতা দশরথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের নিয়ম সীতা পালন করেছিলেন কী না। তুলসী মিথ্যা বলে। যার ফলে সীতার অভিশাপে তুলসী পেল ক্ষুদ্র দশা। আর একটি মতে তুলসী নামে কৃষ্ণের এক অন্যতম গােপিনী ছিলেন। রাধার অভিশাপে তুলসী গাছের রূপ পেল। যেন এসব খণ্ড সত্য, খণ্ড কল্পনা। লৌকিক রূপ থেকে আধ্যাত্মিক রূপের দিকে যাত্রা।

তুলসীমঞ্চ ছাড়া হিন্দু বাঙালির গৃহস্থালী অসম্পূর্ণ
তুলসীমঞ্চ ছাড়া হিন্দু বাঙালির গৃহস্থালী অসম্পূর্ণ

আধ্যাত্মিক ভাবনায় তুলসীগাছ মঞ্চ পেল। লৌকিক বিশ্বাস এই তুলসীতলায় বিষ্ণু ত্রি সন্ধ্যা অর্থে সর্বদা ক্লিাজ করেন। স্থায়ী বিষ্ণুবাহরি মন্দির। চাকে ও ‘শিড়া-পদ্ধতির সাহায্যে তৈরি পােড়ামাটির তুলসীমঞ্চ।

নদীয়ার নদ্বীপের চৈতন্যদেব এবং বীরভূমের একচক্রা গ্রামের নিত্যানন্দের নব্য বৈষ্ণব ধর্মীয় দর্শনে তুলসীমঞ্চ গুরুত্ব পেয়েছিল। যদিও বিষ্ণুপুরাণ ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে তুলসী প্রসঙ্গ আছে। দ্বাদশ শতকের শেষ ভাগে রচিত জয়দেবের গীতগােবিন্দে রাধাকৃষ্ণের প্রেম ভক্তিস মাধুর্য নিয়ে বেশ আলােড়ন তুলেছিল।

কিন্তু তুলসীমঞ্চ চর্চাটি গুরুত্ব পেলমন্দির শিল্পকে কেন্দ্র করে। স্থায়ী ভাবে এ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দু সমাজের বাস্তু ভূমিতে। বাড়ির মেয়েরা স্থানটিতে নিত্য সেবা বা পুজো দেন। পবিত্র ভূমি প্রতি পূর্ণিমায় বিশেষ পুজো। আবার মন্দির, নাটমঞ্চ, স্নান-ঘাট যেমন একে অপরের সম্বন্ধ যুক্ত; তেমনি রাধাগােবিন্দ মন্দিরের সঙ্গে তুলসীমঞ্চের সম্বন্ধ। তুলসীমঞ্চ আসলে একটি ছােট্ট মন্দির।

বাংলার পথে ঘাটের পরিচিত লৌকিক দেবদেবীদের থেকে আলাদা। ছবি আলপনায় সাজানাে। জড়িয়ে আছে লােকাচার-বিশ্বাস-সংস্কার এবং সৌন্দর্যচেতনা ও প্রেম-আনন্দ। যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি জনসংযােগের অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে ভক্ত মনকে আকৃষ্ট করে। অথচ ঘরােয়া বলাবাহুল্যবৃক্ষ পুজোর রীতিটি যথেষ্ট প্রাচীন। আদিতে মানুষ ছিল সর্বপ্রাণবাদী; প্রকৃতির উপাসক। তারা বিশ্বাস করতাে প্রকৃতির প্রতিটি বস্তুর মধ্যে আত্মা আছে। বৃক্ষ পুজো, বিমূর্ত প্রতীক, আবার কখনাে পশুই দেবতা; সর্বশেষ স্তরে এসেছে। নরাকার দেবভাবনা। মানুষ তার নিজের মতােকরে দেবতাকে ভেবেছে।

হিন্দুসমাজে তুলসীমঞ্চে জল দেওয়া থেকে তুলসীপাতা তােলা সবই মন্ত্রনির্ভর। তুলসীপাতা ও মঞ্জরীর ঔষধী গুরুত্বও কিন্তু কম নয়। পরিবেশ বিজ্ঞানে তুলসীগাছ যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। তুলসীগাছের কয়েকটি শ্রেণী ভাগ আছে। সবুজ বড় পাতা বিশিষ্ট স্ত্রীতুলসী, গাঢ় সবুজ-বেগুনি পাতা বিশিষ্ট কৃষ্ণ তুলসী, তীব্র গন্ধযুক্ত বন তুলসী বা রামতুলসী, লবঙ্গের মতাে গন্ধের ভুই বা বাবুই তুলসী, লম্বাটে পাতার সুগন্ধীতুলসী, কপূর তৈরিতে ব্যবহৃত কপূর তুলসী। যাই হােক, তুলসীগাছকে দেবীজ্ঞানে স্থান দেওয়ার অর্থ সৌখিন মানসিকতায় লৌকিক ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন। লােকসমাজের বিশ্বাস যার গৃহে তুলসীবন আছে, তার গৃহ তীর্থস্বরূপ; যারা বৈশাখ মাসে তুলসীগাছ লাগান তারা অশ্বমেধের ফললাভ করেন; যারা বিষ্ণু ও তুলসীর সেবা করে থাকেন তাদের ভােগ বাসনা পূর্ণ হয়। তাই তুলসীতলায় গােবর জলে লাতা দেওয়া, প্রণাম, পুজো, সন্ধ্যা দেওয়ার মতাে রীতি পালন করা হয়।

ব্রত এবং অনেক পুজোর আয়ােজন প্রস্তুতিতে তুলসীতলাকেই বেছে নেওয়া হয়। তুলসীমঞ্চকে কেন্দ্রে রেখে কীর্তন গান সাধারণ ঘটনা। শ্রীহরির পুজোর প্রধান উপকরণ তুলসীপাতা। চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সময় তুলসীপাতার ব্যবহার লক্ষণীয়। প্রসাদ বা চরণামৃতের সঙ্গে তুলসীপাতা, সাধু সেবায় তুলসীপাতার ব্যবহার, হিন্দুধর্মে মৃতের চোখে তুলসীপাতা দেওয়ার রীতির মতাে নানা প্রয়ােজনে ব্যবহার।

লৌকিক সংস্কারগত ধর্মীয় গুরুত্বই তুলসীগাছকে মঞ্চ দিয়েছে। ভূমি থেকে একটু উঁচুতে। ধীরে ধীরে উঁচু ঢিবি মন্দিরের রূপ নিয়েছে। যেহেতুগাছ তাই খােলামন্দির। অধ্যাত্মবােধ ও শিল্পবােধের সমন্বয়। দশম একাদশ শতকে বরাকরের শিল্পীদের তৈরি বেগুন আকৃতির বেগুনিয়া মন্দির এবং বিষ্ণুপুরে মল্লরাজাদের আমলে তৈরি চালাঘর ও জোড় বাংলাে মন্দির চর্চার পাশাপাশি; ওড়িশার মন্দির - স্থাপত্য চর্চা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর-সােনামুখী, মেদিনীপুরের দাসপুর, হুগলীর গুপ্তিপাড়ার সূত্রধরদের মন্দির চর্চাকে প্রভাবিত করেছিল। ধ্রুপদী শিল্প চর্চা; কিন্তু না ধ্রুপদী না লৌকিক। বাংলার মন্দির শিল্পচর্চা আসলে উৎকর্ষের ঝােক। রেখ বা শিখর দেউল, ভদ্র বা পীড়া দেউল, শিখর যুক্ত ভদ্র দেউল বা খাখরা দেউল, স্তুপ যুক্ত ভদ্র দেউল বা গৌড়ীয় দেউল। এই চারটিই ধ্রুপদী নিদর্শন।

কয়েকটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ছাড়া বাংলার মন্দির মূলত তিন ধরনের। প্রথম ধরনটি হলাে বাংলার নিজস্ব পদ্ধতি। কুঁড়ে ঘরের আদল দো-চালা চার-চালা। দ্বিতল ঘরের অনুকরণে চার চালার উপর। অলঙ্কৃত চারচালা নিয়ে আটচালা। দুটি দো চালার সংযােগে জোড় বাংলা। দ্বিতীয় ধরনটি হলাে চালাঘরের মতাে ঢালু ও বাঁকানাে কার্নিস যুক্ত ছাদ আর এক বা একাধিক চুড়া সংবলিত রত্ন মন্দির; মূল গর্ভগৃহে একটি কুঠরী বানিয়ে সর্বচ্চ চূড়া। মধ্যচূড়া। মাধ্যে একটি এবং চার কোণে চারটি চূড়া নিয়ে পঞ্চরত্ন। প্রয়ােজনে মধ্য চূড়ার উপর আবার এক বা একাধিক তল তৈরি হয়। মূল গর্ভ গৃহেই দেবতার অধিষ্ঠান! আর মন্দির তলের সংখ্যা বাড়ালেই চুড়া বা রত্ন সংখ্যা বেড়ে যায়। চূড়াগুলি অলঙ্কৃত ছােট্ট ছােট্ট গৃহ। তৃতীয় প্রনটি হলাে সামনে। খিলান যুক্ত বারান্দা-সহ সমতল ছাদ নিয়ে দালান মন্দির। বলাবাহুল্য এক সময় মন্দির বলে কিছুই ছিল না। যত্তস্থান আর পথে ঘাটে পড়ে থাকা কোনও অলৌকিকতাকে আশ্রয় করে লৌকিক সমাজ ভিড় জমাতাে। যাই হােক, বাংলার পােড়ামাটির তুলসীমঞ্চ কুম্ভকারদের তৈরি।

বাংলার মন্দির শিল্পের ক্ষুদ্র রূপ। চালা মন্দির ও পঞ্চরত্ন মন্দিরের অপূর্ব মিশ্রণ। মাটির, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা ভঙ্গিতে নানা রূপে ইট-সিমেন্ট ও পাথরের হয়েছে। সেঁটে দেওয়া হচ্ছে এনামেল প্লেটে চিত্রিত রাধা-কৃষ্ণের যুগলমূর্তি। কিংবা তেল রঙে আঁকা। মাটির তুলসীমঞ্চের সন্ধান মিলবে মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া, তমলুক, সুতাহাটা, দাসপুর, খগপুর, সনাবাজার, মির্জাবাজার এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। পাঁচ ভাগ এঁটেল মাটির সঙ্গে এক ভাগ বালি মাটির মিশ্রণ একদিন ছায়ায় রেখে; সেটি দিয়ে দড়ির মতাে লম্বাটে ‘শিড়া’ বানানাে হয়। শিড়াগুলি কাঠের তক্তায় পর পর রেখে জুড়ে দেওয়া হয়।

তারপর কাঠ দিয়ে পিটিয়ে তৈরি হয় হাফ থেকে এক ইঞ্চি পুরু সমতল দেওয়াল। দেওয়ালের সংখ্যা অনুসারে চার-ছয়-আট কোণা স্তুপ। উচ্চতায় পয়তাল্লিশ থেকে নব্বই সেন্টিমিটার। দুটি দেওয়ালের মধ্যবর্তী সংযােগ স্থলটি লম্বা। কাদার পটি দিয়ে জোড়া দেওয়া হয়। অর্থাৎ তৈরি মঞ্চটির ভেতরটি ফাপা। নীচের সমতল ভূমির সঙ্গে সংযােগ রেখে মাটি ভরাট সম্ভব। চতুর্ভুজ কিংবা ষড়ভুজ কিংবা অষ্টভুজ মঞ্চটির প্রান্ত ভাগ এবং তার একটু উপরের চারপাশ কাদার পটি দিয়ে বেড়ি দেওয়া হয়; যাতে অল্প মাটির গভীরে থাকা। মঞ্চটি সহজে উপড়ে তােলা না যায়। উর্ধ্বভাগের চালাটি ঢালু এবং বাংলার চালার মতাে বাঁকানাে। যার ভেতরটিতে থাকে একটি কাণা উঁচু অর্ধ কলস। কিংবা পরপর দুটি ছােটো অকলস। তৈরি হয় চাকের সাহায্যে। কাদার সাহায্য নিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়। তারপর দক্ষতার সঙ্গে উপরের চালাটি তৈরি করা হয়। উপরের কানা উচু কলসটিতেই তুলসীদেবীর অবস্থান। পরপর দুটি অধৰ্কলস কাঠামাে থাকলে; সংযােগ স্থলের বেড়িতে সেঁটে দেওয়া হয় বিষ্ণু বা কৃষ্ণের মুখ নিয়ে তিন-পাঁচটি সফণাছাত্রের ক্ষুদ্ররূপ এবং চক্র। চারপাশে পরপর সাজানাে। তুলসীমঞ্চের দেওয়ালটিতে সেঁটে দেওয়া হয় অলঙ্কৃত মূর্তি পুতুল। ঠিক যেমন টেরাকোটার মন্দিরগুলি সাজানাে হয় ছাঁচে তৈরি ফলক দিয়ে। নির্দিষ্ট প্যানেলে সাজানাের জন্য ফলকগুলির পেছনে থাকতে নির্দেশক চিহ্ন বা সংখ্যা। ক্ষুদ্র তুলসীমঞ্চগুলি কিন্তু সূত্রধরদের তৈরি এই ফলক দিয়ে সাজানাে হয় না। কুম্ভকারদের তৈরি পুতুল। যেমন রাধা-কৃষ্ণ, লক্ষ্মীনারায়ণ, রাম-সীতা, আলঙ্কারিক ফুল-নকশা। পাশাপাশি লেখা থাকে শিল্পী ও গৃহকর্তার পরিচিতি, প্রণাম বাক্য, কৃষ্ণ নাম। মােটামুটি পয়ার ছন্দে লেখার চেষ্টা। অনেক সময় তুলসীমঞ্চের নীচের দিকে ছােটো একটি খােপ কাটা থাকে। মূল উদ্দেশ্য প্রদীপ শিখাকে হাওয়া থেকে একটু আড়াল করা। মুদ্রা উৎসর্গ কিংবা অন্য কোনও  ঠাকুরের মাটি-চরণামৃত রাখার জন্যও ওই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়।

বলাবাহুল্য, তুলসীমঞ্চের গঠন এবং ওই খােপ অনেক বড় ও চারধার উন্মুক্ত রেখে; ওই গর্ভগৃহে তুলসীদেবীকে প্রতিষ্ঠিত করার দৃষ্টান্তও  লক্ষণীয়। সেক্ষেত্রে তুলসীমঞ্চ টির উপরিভাগ মন্দিরের চেহারা নেয়। এ ধরনের তুলসীমঞ্চ গুলি টেরাকোটা মন্দিরের সমগােত্রীয়।

বাংলায় প্রচলিত ছােটো ছােটো তুলসীমঞ্চ গুলিও পােড়ামাটির। রােদে  শুকিয়ে ‘বণক’ এর প্রলেপ লাগিয়ে পণে পােড়ানাে হয়। তারপর মাটিতে কিংবা চৌকো উঁচু বেদী প্রস্তুত করে তুলসীমঞ্চটিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মঞ্চের চারপাশটি আলপনা  চিত্রিত। চৈত্র সংক্রান্তি থেকে বৈশাখের সংক্রাক্তি পর্যন্ত তুলসীমঞ্চের দু পাশে বাঁশ বেঁধে দু-প্রান্তে দড়ি বেঁধে ছােট ছিদ্র যুক্ত একটি হাঁড়ি ঝােলানাে হয়; যাতে ওই ছিদ্র পথে বেরিয়ে আসা বিন্দু-বিন্দু জল তুলসীগাছের উপর পড়ে। তুলসীগাছ সংরক্ষণে এ এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত। ধর্মীয়  মােড়কে প্রেমের প্রতীক বাতুলসীর ভেষজ বস্তু গুলিকে রক্ষা করা।

নদীমাতৃক পলির দেশে পােড়ামাটির শিল্প বস্তু নির্মাণ করে তুলসীদেবীকে লৌকিক সমাজ একটা নির্দিষ্ট মঞ্চ দিল। বলাবাহুল্য, মাটিতে গর্ত করে তাকে পাত্র হিসাবে ব্যবহার কৌশল থেকেই মাটির পাত্রের ধারণা। তুলসীমঞ্চ নির্মাণ করেন এরকম শিল্পীদের কেউ কেউ নিজেদেরকে রাজমিস্ত্রি ও বলেছেন। যাইহােক, প্রাচীন গ্রিসে রাজকীয় উৎসবেও তুলসী ব্যবহৃত হতাে। মােন্ডাভিয়াতে বাউন্ডুলে প্রেমিকের জীবনকে বাঁধতে প্রেমিকা তার হাতে তুলে দেন সমঞ্জরী তুলসী। তুলসী অক্সিজেনের শক্তি ঘর। পূণ্যিপুকুর, কুলকুলতি,বসুন্ধরাব্রতের সময় মেয়েরা এই শক্তিঘরকে নিরাপদ এবং পবিত্র স্থান হিসাবেই বেছে নিয়েছেন।

কখনাে কখনাে মঞ্চটিকে ঘিরে তিন ধারে সেজে ওঠে  ফুলের বাগান। গ্রাম্য পরিবেশে তুলসীমঞ্চের
পাশাপাশি থাকে ধানের মােড়াই এবং বেশ দুরে হাঁস ঘর। আরও একটু দুরে গােয়ালঘর এবং খামার ও সারকুল। কিন্তু মাটির তুলসীমঞ্চ প্রায় হারিয়ে গেছে। যদিও তুলসীমঞ্চ এখনও আছে।

Previous
Next Post »