শরীর সচল রাখতে শশার বিকল্প নেই।

শরীর সচল রাখতে শশার বিকল্প নেই।


গ্রীষ্মকালে আমাদের দেহ থেকে ঘামের সঙ্গে জল বেরিয়ে যায়। তাই চিকিৎসকেরা শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে শশা, তরমুজঅর্থাৎ যেসব সবজি বা ফলে জলের পরিমাণ বেশি থাকে, সেইসব ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে শশার কোনও বিকল্প নেই। যতই রাজকীয় ভােজনের আয়ােজন করা হােক, তাতে থাকবেই স্যালাড।নিয়মিত শশা খেলে অনেক উপকার মেলে।

শরীর সচল রাখতে শশার বিকল্প নেই।
শরীর সচল রাখতে শশার বিকল্প নেই।

কনস্টিপেশনের প্রকোপ কমায় :

শশার ভেতর থাকে ফাইবার যা শরীরের ভেতরে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতাে রােগের প্রকোপ সহজেই কমে যায়।


ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় :

বর্তমানে দেশের যা পরিস্থিতি তাতে সাবধানতা অবলম্বন না করলে চরম বিপদ। প্রতি বছর ক্যানসার আক্রান্ত রােগীর সংখ্যা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তাই সেইসব খাবার খাওয়া উচিত যেগুলিতে মারণরােগ দূরে থাকে। এই কারণে শশা বাদ দেওয়া একেবারেই চলবে না। শশায় উপস্থিত উপাদান মানবদেহে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

শরীরে জলের অভাব পূরণ করে :

দেহের ভিতর জলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখাটা খুবই জরুরি। না। হলে শরীর শুকিয়ে একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রতিদিন শশা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, শশায়। ৯৬ শতাংশ জল থাকে। যা খুব সহজেই শরীরে জলের অভাব পূরণ করে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

ত্বকের পরিচর্যায় :

শশায় উপস্থিত সিলিকা কোষে প্রবেশ করে কোষের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তােলে, ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। শশা খাওয়া শুরু করলে শরীরে থাকা টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়। ফলে স্কিন টোনের দারুণ উন্নতি ঘটে।


ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয় :

শশায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও  সিলিকন। এইসব খনিজ শরীরের পাশাপাশি ত্বকেরও উন্নতি ঘটায়। তাই যদি সুন্দর ত্বক পেতে চান, আজ থেকেই শশা খেতে শুরু করুন।

পুষ্টির ঘাটতি দূর করে :

৩০০ গ্রাম শশায় ১১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ গ্রাম প্রােটিন, ২ গ্রাম ফাইবার, দিনের চাহিদা প্রায় ১৪ শতাংশ ভিটামিন সি, ৬২ শতাংশ ভিটামিন কে থাকে। দিনের চাহিদার ম্যাগনেসিয়াম, ১৩ শতাংশ পটাসিয়াম, ১২ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ। এই সবকটি উপাদানই আমাদের শরীরের গঠনেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে :

গরমে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত শশা খাওয়াটা খুব জরুরি। কারণ শশা দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে সানস্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রচণ্ড রােদের তাপে ত্বক পুড়ে গেলেও শশা লাগানাে যেতে পারে।  শরীরকে বিষমুক্ত করে :
শশার বিপুল পরিমাণ জল দেহের ভেতর প্রবেশ করা মাত্র টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। শরীর হয় বিষমুক্ত।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আনে :

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ফলটির জুড়ি মেলা ভার। শশা শরীরের ভেতর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না।

ওজন কমে :

ওজন বাড়ছে? আজই শশা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার  মিলবে। কারণ, শশায় উপস্থিত বিশেষ কিছু উপাদান শরীরে মজুত চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে।

লিখেছেনঃ রিংকী ব্যানার্জি

Previous
Next Post »