বহু গুণসম্পন্ন কুমড়োর বিচি।

বহু গুণসম্পন্ন কুমড়োর বিচি।

অনেক সময়ে ভিটামিন বি এর ঘাটতি পুরণে কিংবা মুখরােচক স্ন্যাক্স হিসাবে কুমড়াের বিচি খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ১০০ গ্রাম কুমড়াের বিচিতে থাকে ৫৬০ ক্যালরি। যা খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি থাকার একটা অনুভূতি থাকে। প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানে পাওয়ার হাউস’বলে। পরিচিত মিষ্টি কুমড়াের বিচিতে রয়েছে। ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম, প্রােটিন, আয়রনের মতাে গুরুত্বপূর্ণ সব পুষ্টি উপাদান। এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক মিষ্টি কুমড়াের বিচির নানা গুণ

বহু গুণসম্পন্ন কুমড়োর বিচি।
বহু গুণসম্পন্ন কুমড়োর বিচি।

(১) হার্ট ভালাে রাখে :

কুমড়াের বিচি এমন একটি খাদ্য উপাদান যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ফাইবার ও উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলি নানাদিক থেকে হার্টকে সুরক্ষা দেয়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ফ্রি ডিক্যালস ঝরিয়ে হার্টকে রাখে সুস্থ। এছাড়া ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলের পরিমাণ কমিয়ে  ভালাে কোলেস্টেরল এইচ ডি এলের পরিমাণ বাড়ায়। ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে হার্টের উপর চাপ পড়েনা, স্ট্রোক ও হৃদরােগের ঝুঁকি কমে।

(২) ভালাে ঘুমের জন্যও উপকারী :

কুমড়াের বিচিতে ট্রিপটোফ্যান নাম একটি বহু গুণসম্পন্ন কুমড়াের বিচি পরিমল কুণ্ডু উপাদান আছে, যা মস্তিষ্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ । নিউরােট্রান্সমিটার সেরাটোনিনের নিঃসরণ বাড়ায়। সেরাটোনিন ভালাে ঘুম হওয়ার জন্য দায়ী। তাই তাে ইদানীংকালে গবেষকরা বলেন, রাতে ঘুমানাের আগে মুঠোভর্তি করে কুমড়াের বিচি (সামান্য তেলে নুন দিয়ে নাড়লে খেতে ভালাে লাগবে) খেলে সাউন্ড স্লিপ হয়।


(৩) রােগপ্রতিষেধক ক্ষমতা বাড়ায় : 

কুমড়াের বিচিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যালস, যা শরীরের রােগ প্রতিরােধক ক্ষমতাকে চাঙ্গা  করে। ফলে, সিজনাল ফ্লু, ভাইরাল জ্বর, সর্দি, কাশি, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এক কথায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর কুমড়াের বিচি।

(8) জ্বালাপােড়ার কষ্ট কমায় :

 বাতের ব্যথা, জয়েন্ট পেইন, পেশির জ্বালাপােড়ার অনুভূতি কমাতে কুমড়াের বিচি খুবই কার্যকরী।


(৫) ডায়াবেটিস রােগীদেরও পক্ষেও উপকারী :

কুমড়াের বিচি শরীরে নিয়মিত ইনসুলিন সরবরাহ করে ও ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এছাড়াও পরিপাক ক্রিয়া সহজে হতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তে অযথা শর্করার পরিমাণ বাড়তে পারে না।

(৬) প্রােস্টেটের সুরক্ষা দেয় :

কুমড়াের বিচিতে থাকে গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল জিংক, যা সার্বিকভাবে পুরুষত্বের ধারা বাড়ানাের পাশাপাশি, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রােস্টেটের সুরক্ষাপ্রদানকারী হিসাবেও কাজ করে। বিচিতে থাকা ডি এইচ ও (ডাই হাইড্রো এপি অ্যান্ড্রোস্টেনেডিয়ন) প্রােস্টেট ক্যানসারকে দূরে রাখে।

(৭) রক্তাল্পতা কমায় :

কুমড়াের বিচিতে যে আয়রন আছে, তা আগেই বলেছি। ফলে যাঁরা আয়রন ডেফিসিয়েন্সি নিমিয়াতে ভুগছেন, তারা ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত কিছুটা করে কুমড়াের বিচি একটু ভেজে, স্যুপে বা স্যালাডে দিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

(৮) স্থূলত্ব দূর করতে :

 এতে থাকে পরিমিত মাত্রার ফাইবার ও ক্যালােরি। ফলে, এটি হজম হতে সময় নেয়। পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে। ফলে বাড়তি খাবার খাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।



Previous
Next Post »