আদিত্যরুপী বিষ্ণুর বিচরণ। Aditarupi Vishnu

আদিত্যরুপী বিষ্ণুর বিচরণ। Aditarupi Vishnu

ত্রিভুবন সমন্বিত মূর্তিতে মানুষকে ইহলােক ও পরলােকে শুভবুদ্ধি দেওয়ার জন্য আদিত্যরূপী Vishnu বারােমাসে এই লােকের সর্বত্র বিচরণ করেন গন্ধর্ব, ঋষি, যক্ষ, রাক্ষস, নাগ, অপ্সরাদের সঙ্গে নিয়ে।তার মধ্যে স্থিত বিশ্ব। বিশ্বমধ্যে স্থিত তিনি। সমস্ত মানবকুল, জীবকুল, উদ্ভিদকুলের মধ্যে তিনি বিদ্যমান। প্রাণহীন, নির্জীব পদার্থের মধ্যেও তিনি বিদ্যমান। ঈশ্বরকণাতেও বিদ্যমান। স্থাবর জঙ্গমাত্মক ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপী তিনি বিদ্যমান।

Vishnu
আদিত্যরুপী বিষ্ণুর বিচরণ।

রূপময় সেই বিরাট পুরুষের দুই পা হলাে পৃথিবী। মাথা হলাে স্বর্গলােক। আকাশ তার নাভি। সুর্য তার নয়ন। বায়ু হলাে নাসিকা এবং দিক হলাে তার কান। এই বিরাট পুরুষের শিশ্ন হলেন প্রজাপতি। মৃত্যু তার অপানবায়ু। সমস্ত লােকপালগণ তার বাহু। চন্দ্র তাঁর মন, তার জ্ব-যুগল হলেন যম। এই পুরুষের অধর দু’টি লজ্জা ও লােভ। জ্যোৎস্না তার দম্ভরাশি, ভ্রম এঁর হাসি, বৃক্ষরা সব রােম এবং মেঘ হলাে তার কেশ। গলার বনমালা হলাে তারই বিভিন্ন মায়া। চেতনা অধিষ্ঠিত সেই বিরাট মূর্তির অঙ্গের পীতবাস হলাে ছন্দ, প্রণব বা ঔ হলাে তার ব্রহ্মসূত্র বা উপবীত। কর্ণে দোদুল্যমান কুন্তল হলাে সাংখ্যযােগ। তিনি ব্রহ্মপদকেই শিরােভূষণ হিসেবে ধারণ করেন। অনন্ত নামে পদ্মাসনে তিনি বসে রয়েছেন। তার হাতের গদাটি হলাে তেজ, সাহস ও বল-যুক্ত প্রাণতত্ত্ব। শঙ্খ হলাে জলিতত্ত্ব আর ঘূর্ণায়মান চক্র হলাে তেজস্তত্ত্ব। নির্মল আকাশতত্ত্ব এঁর অসি আর চর্ম হলাে তমােময়। হাতের শাধনুটি হলাে কাল এবং তুণীর মধ্য দিয়ে প্রকাশিত সমস্ত কর্ম। ইন্দ্রিয়গুলি এঁর ধনুকের তির, মন হলাে রথ। এই মহানদেব পূজার ভূমি হলাে সূর্যমণ্ডল। চামর হলাে ধর্মওজশ। নীলকণ্ঠ হলাে যাবতীয় গুণ, বৈকুণ্ঠ হলাে তার ছত্র, অকুতােভয় হলাে এঁর কৈবলাধাম।


ঋক্, যজুঃ, সাম এই তিন বেদ বিশ্বস্থিতার বাহন গরুড়। যজ্ঞরূপ পুরুষকে এই গরুড়-ই বহন করেন। নারায়ণ হালেন সামগ্রিক আত্মা। অনপায়িনী অর্থাৎ অবিনাশী শক্তি হলেন শ্রী, তিনি লক্ষ্মীরূপে তার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে ব্রিজিত। এই বিরাট পুরুষের চারমূর্তি- বাসুদেব, সঙ্কৰ্ষণ, প্রদ্যুম্ন এবং অনিরুদ্ধ।

এই চারমূর্তি তারই প্রতিরূপ বা অবতার। নারায়ণই বাহ্য পদার্থ, মন, সংস্কার এই তিনের অনুগত জ্ঞানরূপ জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তির বৃত্তি দিয়ে বিশ্ব, তৈজস, প্রাজ্ঞ এবং তুরীয়– আত্মার এই চার অবস্থা হিসেবে কল্পিত হন। ভগবান বিষ্ণুই বেদের কারণ। তিনি সর্বদ্রষ্টা এবং স্বমহিমাতেই মহিমান্বিত। তিনি মায়া দিয়ে এই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও সংহার করেন। তাই তিনি ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর নামে অভিহিত হন। তার নির্মল যশের কথা গান গেয়ে জগৎকে প্লাবিত করেন নারদ এবং গােপিনীরা।

সমস্ত জগতের আত্মা ও সৃষ্টিকর্তা শ্রীহরিই সুর্য। তারই অনাদি অবিদ্যা থেকে সূর্যের উৎপত্তি। লােক্যাত্রা প্রবর্তনের কারণে এই লােকেই সূর্য আজও বর্তমান। শ্রীহরি স্বরূপত এক। কিন্তু কালের কারণেই বেদের সমস্ত কর্মের মূল হিসেব কে ঋষিরা বারে বারে বহুরূপে বর্ণনা  করেছেন। নারায়ণরূপী সুহ মায়ার দ্বারা। কাল, দেশ, ক্রিয়া, কর্তা, কারণ, কর্ম, মন্ত্র, দ্রব্য এবং ফলরূপে কীর্তিত হয়ে থাকেন।

ভগবান আদিত্যই কাল। লােক্যাত্রা নির্বাহের জন্য বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত বারাে মাসে আলাদা আলাদা দ্বাদশ গণের সঙ্গে বিচরণ করেন। প্রতিমাসে সূর্যে বিষ্ণুর সাতটি করে মূর্তি প্রকাশিত হয়।বৈশাখে সূর্যের নাম অর্যমা। জ্যৈষ্ঠে সূর্যর নাম মিত্র। আষাঢ় মাসে সূর্যের নাম অজ্ঞাত। শ্রাবণে সূর্যের নাম ইন্দ্র। ভাদ্রে সূর্যের নাম বিবস্বান। আশ্বিনে সূর্যের নাম ত্বষ্টা। কার্তিক মাসে সূর্য হলেন Vishnu। অগ্রহায়ণ মাসে সূর্যের নাম অংশু। পৌষমাসে সূর্যের নাম হলাে ভগ। মাঘ মাসের সূর্যের নাম পূষা। ফাল্গুন মাসের সূর্য হলেন পর্যন্য। চৈত্র মাসে সূর্যের নাম ধাতা।

জ্ঞানরূপ অনাবৃত আত্মাতে আমাদের উপলব্ধি চিরন্তনভাবে মধুময় হয়ে বিরাজিত হােক, এই কামনা করি অনন্ত পদ্মাসনে। আদিত্যরূপী বিষ্ণুর বিচরণে। আমাদের প্রাণ কলুষতা থেকে মুক্তি পাক। প্রতিদিন থেকে প্রতিমাস, প্রতিমাস থেকে প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে এইভাবে বিচরণকারী আদিত্যরূপী বিষ্ণুর। রৌদ্রকিরণময় আশিস, আমাদের ইহলােক এবং পরলােক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন করে। তুলুক। চিরন্তন থাক সৃষ্টি। সৃষ্টির চর্চিত রসে চারিদিক সুমধুর হয়ে ওঠুক।

Previous
Next Post »