হনুমান সাঁতার কেটে না উড়ে লঙ্কা গিয়েছিল।

হনুমান কী সাঁতার কেটে লঙ্কা গিয়েছিল?

পূর্ণ ব্রহ্মচারী Hanuman এর বিষয়ে আজ মানুষের মধ্যে এক অবধারণা আছে কি Hanuman সমুদ্র পার লঙ্কায় সীতার সাথে দেখা করতে উড়ে গিয়েছিল। কারন আমরা এটাই টিভি তে দেখি  আর বাড়ির বড়োরা এটাই বলে, আর এটাই টিভি তে দেখায়। যদি কোন কথা সব জায়গায় একই শোনা যায়, তাহলে আমরা কোন কিছু যাচাই না করে সেটাই সর্বসত্য বলে মেনে নিই। এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলো আমরা না পরি না বিচার করি। শুধু মেনে নিই এটাই সত্য। 

ভালভাবে জানতে নিচের ইউটিউব ভিডিও টি দেখুন


Hanuman
হনুমান সাঁতার কেটে না উড়ে লঙ্কা গিয়েছিল।

রামায়ন আজ থেকে প্রায় ৯,০০,০০০ বছর আগে হয়েছে ,তায় সত্য সত্য রামায়ন পাওয়া খুব কঠিন। কারন এই বছর পার হওয়া সময়ের মধ্যে এমন কোন বস্তু, সামগ্রী বা কোন ব্যাক্তি নেই যার সত্য সত্য ইতিহাস আপনার কাছে আছে।

রামায়ন এর সুন্দর কাণ্ড( প্রথম স্বর্গ) এ ২৭ আর ২৯ শ্লোক এ বলা হয়েছে " Hanuman পর্বত সমান দৃঢ়সংকল্প ব্যাক্তি ছিলেন, আর তিনি এত তেজ এর সাথে দ্রুত সমুদ্রে সাঁতার কাটছে যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি বায়ুপুত্র ,বায়ুপুত্রের সমান সমুদ্রে সাঁতার কেটে এগিয়ে চলেছে।"

শ্লোক নম্বর ৬৭ তে বলা আছে Hanuman কে দেখে মনে হচ্ছিল যেমন নৌকার উপরের অংশ উপরে আর নিচের অংশ জলের নিচে ডুব থেকে জলে এগিয়ে চলে ,ঠিক তেমনি Hanuman ও সমুদ্রে সাঁতার কেটে এগিয়ে চলেছে। যদি Hanuman উড়ে যেত তাহলে নৌকা আর জল এর উল্লেখ করত না। আর এই শ্লোক এ বলা আছে Hanuman সমুদ্রে যেই যেই জায়গা দিয়ে যাচ্ছিল সেখানে Hanuman এর হাতের বেগের জন্য সমুদ্রে অনেক উঁচু ঢেও তৈরি হচ্ছিল। মনে হচ্ছে হাওয়ার বেগে এগিয়ে যাচ্ছিল।


শ্লোক নম্বর ৬৯ ঃ- Hanuman এই প্রকার এগিয়ে যাচ্ছিল যেমন কোন পাহাড় এর টুকরো সমুদ্রে ফেলে দিলে  সমুদ্রে যেমন ঢেও সৃষ্টি হয় ঠিক তেমন মহাকপি অর্থাৎ Hanuman তার বুকের সাথে সমুদ্রের জল চিরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

শ্লোক নম্বর ৭০ ঃ- Hanuman এর বেগে ভীষণ ঢেও উটছিল যেন গর্জন হচ্ছিল। এই বেগের সাথে এগিয়ে যাচ্ছিল।

শ্লোক নম্বর ৭৬ ঃ- Hanuman জী সমুদ্রে ক্লান্ত না হয়ে এই বেগের সাথে এগোনোর সময় আশে পাশে নাগ অক্ষ ও অনান্য প্রজাতি ছিল। তারা Hanuman এর প্রশংসা করতে লাগল।

Hanuman এর রামেশ্বরম থেকে লঙ্কা যাওয়ার দূরত্ব আজকের গণনা অনুসারে ৫০ কিমি আছে। আর প্রাচীন গ্রন্থ অনুসারে ৪৮ কিমি থেকে কিছু মিটার বেশি।



এতদুর সাঁতার কেটে যাওয়া চারটিখানি কথা না, যেখানে সমুদ্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার মাছ, সাপ ইত্যাদি ভয়ংকর জীব এর মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোন খেলা না। আর শ্লোক এ বিষাক্ত সাপের কথা বলা হয়েছে।
আর Hanuman উড়ে যেত তাহলে এই সব এর কথা বলা হত না। শ্রীরাম এর সেনাদের মধ্যে এমন কেও ছিল না যে সাঁতার কেটে ৪৮ কিমি যেতে পারত। যদি মহাবাহু ,মহাবলি কেও ছিল সেটা একমাত্র Hanuman ছিল। আর শ্রীরাম এর Hanuman এর প্রতি পুরো বিশ্বাস ছিল। আজ একজন সাধারণ মানুষের ৪৮ কিমি হাঁটা সম্ভব না। আর Hanuman সাঁতার কেটে গিয়েছিল।


যদি Hanuman উড়ে যেত তাহলে সবার নজরে চলে আসত, যার জন্য সে ধরা পরে যেত। সেইসময় এর লোক অনুশাসন এর অন্তর্গত কাজ করত। আর খাবার দাবার ও উচিত প্রকার ছিল। এতদুর সাঁতার কেটে যাওয়া ৯,০০,০০০ বছর আগে সামান্য ব্যাপার ছিল না, কিন্তু একজন ব্রহ্মচারীর পক্ষে কোন কিছু কঠিন ছিল না। আর আজকের যুগেও ব্রহ্মচর্য আছে কিন্তু শ্রীরাম এর মতো রাজা নেই। কিন্তু বর্তমান সময়ে Hanuman কে দৈবিক শক্তির সাথে যুক্ত করে উড়ছে এইরকম দেখায়। যদি উড়েয় যায় তাহলে বিমান যত উঁচু তে উড়ে তত উচুতেয় উড়ে যেত। সমুদ্র থেকে ৫-১০ ফিট উচুতে উরতে দেখায় কেন। 
Previous
Next Post »