সুস্থ ও নীরােগ থাকতে শাক খাওয়া প্রয়ােজন

সুস্থ ও নীরােগ থাকতে শাক খাওয়া প্রয়ােজন

বর্তমান যুগে আধুনিকতায় শাক খাওয়ার অভ্যাস কিছুটা ম্লান হলেও বহু পুরাতন এই রীতির বৈজ্ঞানিক যুক্তি অতি বাস্তবসম্মত। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৩০০ গ্রাম করে শাক-সবজি খাওয়া দরকার, যার মধ্যে ১২০ গ্রামই শাক বা পাতাজাতীয় হলে শরীর সঠিক পুষ্টি পায়। শাক শরীরের পাচনতন্ত্রকে ঠিক রাখে ও “অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট’ হিসেবে কাজ করে শরীরকে নানাবিধ কঠিন রােগব্যাধি এমনকী ক্যান্সার থেকেও রক্ষা করে।

সুস্থ ও নীরােগ থাকতে শাক খাওয়া প্রয়ােজন
সুস্থ ও নীরােগ থাকতে শাক খাওয়া প্রয়ােজন

আবার বেশ কিছু শাক যেমন কুলেখাড়া, ব্রাহ্মী, গিমা, ব্রত শাক== এগুলির ভেষজ গুণাগুণ অপরিসীম ও আমাদের দেশীয় পরস্পরায় বহুকাল থেকে নানাবিধ রােগ নিরাময়ে ও রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বানাতে এসবের প্রচলন রয়েছে।

কুলেখাড়া : বর্ষজীবী ১.৫-২ ফুট লম্বা রােমযুক্ত কাণ্ড। পাতা লম্বাটে, শীতকালে বেগুনি ফুল হয় ও তখন গাঁটে কাটা দেখা যায়। মূলত পাতা ও নরম কাণ্ড। মূল ও বীজও ব্যবহার হয়।

গুণাগুণ : রক্তাল্পতায় অত্যন্ত উপকারী। অনিদ্রা, শোথ, বাত ও মূত্রযন্ত্রের রােগে ব্যবহার হয়। যৌন দুর্বলতায় শেকড় গুঁড়াের প্রচলন আছে।

উপযুক্ত জমি ও মাটি : ভিজ্যোতস্যাতে জায়গায় ভালােহয়।জমা জল সহা করতে পারে না। জলাধারের নিকট টুকরাে জমি, ঘরােয়া বাগানে আদর্শ।

বংশবিস্তার : কাণ্ড ও বীজ দ্বারা সাধারণভাবে চাষ করলে কাণ্ডের কাটিং লাগানাে দরকার ১১ ফুট দূরত্বে।

চাষ ও পরিচর্যা : কাটিং বসানাের আগে প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ কেজি শুকনাে গােবর সার কেঁচোসার দিলে গছিসতেজ হবে। আগাছা মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করাতে নিড়েন দিতে হবে। বড় আকারে চাষ করালে বিঘা প্রতি ১৫ কুইন্টাল জৈবসার, ১০ কেজি ইউরিয়া ও ২০ কেজি ১০: ২৬; ২৬ সার দিয়ে জমি তৈরি করে একমাস পর চাপান হিসাবে ৮ কেজি ইউরিয়া দিতে হবে।

চয়ন ও ফলন : ৪-৫ মাস পর শাক কাটার উপযুক্ত হয়। শীতকালে বীজও মূল সংগ্রহ করা হয়। শাকহিসাবে প্রয়ােজনে সারা বছর লাগিয়ে বাজারজাত করা চলে।

ব্রাহ্মী বা বিরমী শাক : বর্ষজীবী লতানাে গছি। প্রতি গাঁটে শিকড় ও সূক্ষ্ম রােম থাকে। ডিম্বাকার রসালাে ছােটো পাতা। গ্রীষ্মে নীলচে ফুল ও ফল হয়।

ব্যবহার্য অংশ : পাতা, কাণ্ড ও মূল। সাধারণত শাক হিসাবে ব্যবহার হয়।

গুণাগুণ : বুদ্ধি ও মেধাবর্ধক হিসাবে সুপরিচিত। বায়ু, রক্ত দোষ, বাতজনিত দুর্বলতা ও সর্দি-কাশিতে ভালাে ফল দেয়।

উপযুক্ত জমিও মাটি : মাটি হিথের মতােই  ভিজে ও কিছু ছায়াযুক্ত জমিতে ভালাে হয়। বড় আকারে চাষ করার জন্য জৈব সারযুক্ত জমিতে কিছু ছায়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বংশবিস্তার : লতার টুকরাে/কাটিং দ্বারা বর্ষার শুরুতে দেড় ফুট দূরে কাটিং লাগানাে হয়।

চাষ ও পরিচর্যা : ছােটো ঘরােয়া বাগানে চাষ করলে কুলেখাড়ার ন্যায় জৈবসার দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। বড় আকারে চাষে বিঘা প্রতি ১৫ কুইন্টাল জৈবসার, ১০ কেজি ইউরিয়া , ৫০ কেজি সুপার ফসফেট ও ১৫ কেজি মিউরেট অব পটাশ দিয়ে জমি তৈরি করে কাটিং লাগিয়ে ১ মাস পরে ১০ কেজি ইউরিয়া ও ৮ কেজি পটাস চাপান দিতে হবে। নিড়েন আগাছার জন্য দিতে হবে।

চয়ন ও ফান : ৩-৪ মাসের মধ্যে লতা শাক কাটার উপযুক্ত হয়। বছরে ২-৩ বার লতা কাটা যায়। ৪-৫ উঁটা শুদ্ধ লতা আঁটি বেঁধে বিক্রি হয়। বিঘা প্রতি ৪০-৪৫ কুইন্টাল কাঁচা ও ৮-১০ কুইন্টাল শুকনাে সার পাওয়া সম্ভব।

পুদিনা : বর্ষজীবী শাক, পাতা ডিম্বাকার ও ঘন সবুজ, ধার খাঁজকাটা। পাতা ও গাছঝাঝালাে গন্ধযুক্ত। সমগ্র গাছি ও নিঃসৃত তেল ব্যবহার করা যায়।

গুণাগুণ : পেটফাঁপা নিবারক, মূত্রকর, রক্তাল্পতায় উপকারী। শুকনাে গাছের গুঁড়াে দাঁতের পক্ষে উপকারী।

উপযুক্ত জমি ও মাটি : শাকসবজি হয় এরকম সব মাটিতে ও জমিতে চাষ সম্ভব। জমিতে যথেষ্ট জৈব বস্তু থাকলে বাড়বৃদ্ধি ভালাে হয়। এই শকত্ৰা চাষে পর্যাপ্ত সূর্যালােক দরকার।

বংশবিস্তার : শেকড় সহ কাণ্ডের কাটিং বা শুধু কাণ্ডের কাটিং লাগালেই চলে। দেড় ফুট অন্তর সারিতে দেড় ফুট দূরত্বে অগ্রহায়ণ ফাল্গুন মাস অবধি লাগানাে যাবে।

চাষ-পরিচর্যা : ঘরােয়া বাগানে বা ছােটো স্থানে কুপিয়ে প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ কেজি জৈব সার ও ১০০ গ্রাম ১০ : ২৬ : ২৬ দিয়ে কাটিং লাগিয়ে কাটিং তােলার পর ১০০ গ্রাম করে ইউরিয়া চাপান দিতে হবে। বড় পরিসরে চাষে ব্রাহ্মীর মতাে বিঘা প্রতি চাষ ও পরিচর্যাব্যবস্থা নিতে হবে। মাঝে মধ্যে নিড়েন জরুরি।

চয়ন ও ফলন : গ্রীষ্মে এই শাকটির চাহিদা রয়েছে। বড় শহরে পুদিনার শরবত বিক্রি হয়। দু মাসের মধ্যে শাক উঁটিাসমেত কাটা চলবে। বিঘা প্রতি ২০-২৫ কুইন্টাল ফলন সম্ভব। বারবার তােলা যাবে।

লেখক - রিংকী ব্যানার্জি
Previous
Next Post »