মাঝে মধ্যে উপােস করা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

মাঝে মধ্যে উপােস করুন।

মাঝে মাঝে উপােস দিলে পাকস্থলী বিশ্রাম পায় এবং তার কর্মশক্তিও অক্ষয় থাকে। চন্দ্ৰসূর্যের গতি অনুসারে যেমন সমুদ্রে জোয়ার ভাটার বেগ কমবেশি হয়, শরীরের রসেরও তেমন হয়ে থাকে। এই কারণে একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা তিথিতে একবেলা কিছু লঘু আহার করা কর্তব্য। শরীরের অম্ল্যাধিক্যে এইভাবে উপােস দিলে অম্ল উপশমিত হয়ে দেহগত উপাদানে সাম্যতা আনে। প্রবাদ আছে, ডান নাক দিয়ে শ্বাস বহনকালে আহার করা শ্রেয়, বাম নাকে শ্বাস বহনকালে জল পান করা উত্তম।

মাঝে মধ্যে উপােস করা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
মাঝে মধ্যে উপােস করা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

এই সঙ্গে আরও জেনে রাখা দরকার যে, পাকস্থলীতে খাদ্য না পড়লে পাচকরস নিঃসৃত হয় না। পাকস্থলীতে যেমন খাদ্য পড়বে সঙ্গে সঙ্গে পাচকরসও পাকস্থলীর গা থেকে সেইভাবে বের হয়ে ভুক্তদ্রব্যের সঙ্গে মিশে যায়।উপপাসের অর্থ-খাদ্য গ্রহণ না করা। পেটে খাদ্যদ্রব্যের অনুপস্থিতিবশত, খাদ্যের নিজের অম্লরস উৎপাদিত হচ্ছে না, উপরন্তু পাকস্থলী থেকে পাচক রস নিঃসৃত হচ্ছে না, ফলে অম্নরসের যােগানই বন্ধ হয়ে যায়, কাজেই স্বাভাবিক ক্ষারধর্মই প্রবল হয়ে শরীর সুস্থ করে। অন্ত্রের ধার রক্ষা করতে যেমন শান দেওয়া হয় তেমনই উপােসও শরীরকে শানিয়ে রাখে। অর্থাৎ উপােসেই শরীরের ক্ষারত্ব বাড়ে।

এমন খাদ্য খেতে হয় যাতে মােটের ওপর শরীরের ক্ষারত্ব বজায় থাকে। কিন্তু দ্রব্যমাত্রেরই এমনকি চিনি-মিছরিরও অম্লরস আছে, এজন্য এমন সব দ্রব্য একসঙ্গে খেতে হয় যাতে অম্লরস নষ্ট হতে পারে। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি বােঝবার পক্ষে সুবিধা হবে।

আমরা ভাত বা রুটি খাই, এগুলাে খেতে কিছুমাত্র টক স্বাদও লাগে না, কিন্তু পেটের ভিতর গিয়ে তা থেকে যেমন শর্করা রস উৎপন্ন হয় তেমনই অম্লরসও উৎপন্ন হয়ে থাকে। অথচ আমাদের শর্করা রসটুকুই প্রয়ােজন। কাজেই ফলমূল, তরি-তরকারি প্রভৃতি খেয়ে ওই অম্নরসের ভাগটুকুকে কাটিয়ে নিই এবং সেই সঙ্গে লবণ প্রভৃতিও সংগ্রহ করি।

কোন দ্রব্যে অম্লরস বেশি বা ক্ষার বেশি উৎপন্ন হয় তার সংক্ষিপ্ত তালিকা এই চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, তেল এরা পরিপাকের পর অম্লরস উৎপাদন করে। দুধ,দই, ঘােল, লেবু, কমলা,কমলা আলু, মুলা, সিম, বেগুন, পটল, কপি প্রভৃতি ক্ষার উৎপাদন করে। ক্ষার-পরিণামী দ্রব্যের ওপর যত বেশি নির্ভর করতে পারা যায় ততই ভালাে; তবে কোনাে শ্রেণীর খাদ্যেই এককভাবে শরীর রক্ষা করতে পারে না তাই দু শ্রেণীর খাদ্যের দরকার। শরীর ক্ষার ধর্মাবলম্বী বটে, কিন্তু তাই বলে এর আধিক্য হওয়াও ভালাে নয়। ক্ষারের আধিক্য ঘটলে শরীরে নানা দোষের উৎপত্তি হয়। সেজন্য কিছু অম্লরসােৎপাদক দ্রব্যও রােজ খেতে বলা হয়েছে।

Previous
Next Post »