সৌন্দর্য বাড়াতে প্রাকৃতিক রূপচর্চা।

সৌন্দর্য বাড়াতে প্রাকৃতিক রূপচর্চা। natural beauty

প্রকৃতির বুকে ছড়ানাে অজস্র ভেষজের চমৎকারী গুণে মুগ্ধ হয়ে সারা পৃথিবী ক্রমশঃ ঝুঁকেছে ভেষজের দিকে কারণ দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যেমন বিকল্প নেই তেমনি সৌন্দর্য রক্ষার ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক দ্রব্যের কোন বিকল্প হয় না। আর এমনই অজস্র চমকপ্রদ উপাদানগুলি ছড়িয়ে আছে আমাদের চারপাশে।

সৌন্দর্য বাড়াতে প্রাকৃতিক রূপচর্চা।
সৌন্দর্য বাড়াতে প্রাকৃতিক রূপচর্চা।

ত্বক ঃ-

ত্বকের পরিচর্যা করা প্রয়ােজন ভেতর থেকে অর্থাৎ ত্বকের স্থায়ী উজ্জ্বলতা আনতে ও সুস্থ সতেজ রাখতে টাটকা ফল, শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে।
ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়ােজন ক্লেনজিং (ত্বক পরিষ্কার করা), টোনিং মুখের খােলা রােমকূপ বন্ধ করা এবং ময়শ্চারাইজিং (আদ্রর্তা ফেরানাে)।

ক্লিনজিং ঃ
আলুর রসে তুলাে ভিজিয়ে বা আলুর রস লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে মুছে ফেলতে হবে। দুধ ও কমলালেবুর রস মিশিয়েও মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। শশাকে বেটে তার রস সারা মুখে লাগিয়ে ৫-৭ মিনিট পরে ধােয়া। লেবুর রসে তুলাে ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন।

টোনিং ঃ
গােলাপের পাপড়ি, পুদিনা, আমলকি ও শশা বেটে ত্বকে লাগানাে, দইয়ের ঘােল মুখে লাগানাে তাছাড়া সমপরিমাণ ভিনিগার ও লেবুর রস ব্যবহার করা যায় টোনার হিসেবে।

ময়শ্চারাইজিং ঃ
মধু, খেজুর, বাঁধাকপি, পুদিনা ও তুলসীর নির্যাস করে ব্যবহার করতে পারেন বা সামুদ্রিক লবণকে গরম জলে দিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া একটি ডিমের সাদা অংশে এক চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে সারা মুখে মেখে আধঘন্টা রেখে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবেই অতি সহজে সর্ব উৎকৃষ্ট উপায়ে মুখ তথা ত্বকের যত্ন নেয়া যায়। শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে গােলাপের পাপড়ি ফুটানাে জল সাধারণ জলে মিশিয়ে স্নান করলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে ও শরীরের দুর্গন্ধ দূর হবে।

রূপচর্চার ক্ষেত্রে সুন্দর ত্বকের জন্য কয়েকটি বিশেষ টিপসঃ


আধকাপ চিনিতে খানিকটা সূর্যমুখী বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঐ মিশ্রণ সারা গায়ে মেখে কিছুক্ষণ শুকোতে হবে। শুকিয়ে গেলে ঘষে তুলে ফেলে হাল্কা গরম জলে স্নান করলে ত্বক নরম ও মােলায়েম হবে।

হাল্কা গরম জলে এক চামচ হরিতকি গুঁড়াে অথবা ত্রিফলা গুঁড়াে দিয়ে পরপর সাতদিন খাওয়ান প্রতিমাসে একবার।

হাল্কা গরম জলে আধ চামচ নিমপাতা বাটা গুলে খান এতে পেট ও ত্বক পরিষ্কার থাকবে।

হাতের কনুইয়ে অনেকের কালােদাগ থাকে সেই জায়গায় পাতিলেবুর রস লাগিয়ে পাঁচমিনিট রেখে তারপর বেসন ও কাঁচা হলুদ বাটা ও দুধের সর মিশিয়ে লাগালে কনুয়ের দাগ চলে যাবে।

অনেকেরই দেখা যায় ত্বক শুষ্ক অথবা ত্বক ফেটে যায় এক্ষেত্রে স্নান করার আগে বেসন এবং টক দই একসাথে মিশিয়ে সারা গায়ে ভাল করে মেখে কিছুক্ষণ বাদে স্নান করলে কিছুদিনের মধ্যেই ত্বকের জৌলুস ফিরে পাবেন।

শরীরের চামড়া টান টান রাখতে ও লাবণ্য বৃদ্ধি করতে দুই চামচ চালতা পাতার রস আধ চামচ নিশিন্দা ও চারটি গােল মরিচ গুড়াে জলে মিশিয়ে খান।

এক কোয়া রসুন বেটে, এক চামচ কাঁচা আমলকির রসের সাথে মিশি প্রতিদিন একবার খেলে ত্বকের লাবণ্য সারাজীবন বজায় থাকে।

ব্রণ ঃ-

ব্রণের সমস্যায় উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা প্রায়ই ভােগে। এর হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রতিদিন ভাল করে সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা এবং কোষ্ঠ সাফ রাখা বিশেষ প্রয়ােজন। এছাড়া হট ভেপার বা গরম জলের তাপ নেওয়াটাও জরুরী।

কমলালেবুর খােসা বেটে সারা মুখে মাখা ও আধঘন্টা বাদে আঙুলের ডগা দিয়ে রগড়ে ধুয়ে ফেলা।

এক চামচ ধনে পাতার রসের সাথে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে সারা মুখে মাখলে ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শসার ও লেবুর রস দিনে তিন-চারবার ব্রণের উপর বা দাগের উপর লাগানাে।

মুলতানি মাটিকে বরফ জলে ভিজিয়ে বা ঠাণ্ডা জলে এক ঘন্টা রেখে ভালভাবে ফেটিয়ে মুখে লাগালে উপকার হবে।

আধ চামচ করে আমলকী, হরিতকী ও বেড়েলা এক সাথে মিশিয়ে উষ্ণ জল দিয়ে খান।

নিশিন্দা ও বেলপাতার রসের সাথে কপূর দিয়ে ব্রণতে লাগানাে উচিত।

ব্রণ শুকিয়ে গেলে গর্তের মতাে হলে অশথ ছাল গুঁড়াে পেষ্ট করে ক্ষতে লাগান দিনে দুবার।

মুখে বড় বড় ব্রণ হলে এক চামচ পরিমাণ ঘি দিয়ে ভেজে খাওয়া। কাঁচা দুধ দিয়ে শিমূল কাটা বেটে দিনে দুবার করে ব্রণের উপর লাগালে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

কালাে ছােপ ঃ

লিভারের গণ্ডগােল থেকেই এটা বেশি হয়। তবে প্রখর রোেদ বা পিরিয়ডে গােলমালও এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

টক বা অ্যাসিড জাতীয় খাবার বেশি না খাওয়া ও সরাসরি চড়া রৌদ্র না লাগানাে উচিত।

মুখে কালাে ছােপ থাকলে সােমরাজ, কলমীশাকের রস, গাম্ভীর ছাল আধ চামচ করে নিয়ে জলে ফুটিয়ে মুখে মাখা ও শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার জলে মুখ ধােয়া।

মুখে ছােপ ছােপ দাগ হলে অশােক আধচামচ, মটর ডালের বেসনের সাথে মুখে লাগিয়ে ধােওয়া।

মুখে কালাে দাগ হলে আকন্দের আঠার সাথে কাঁচা হলুদ বাটা পেষ্ট করে মুখে লাগানাে।

মেচেতা ঃ

মেচেতা হলে এক টুকরাে দারুচিনি, একটি ছােট এলাচ ও আমচ গুলঞ্চ জল দিয়ে খাওয়ান।

মুখে মেচেতা হলে সুষনী শাক, এক চামচ চন্দন, দুই চামচ দেবদারুর ছাল " জলে ফুটিয়ে হেঁকে সেই জল গরম অবস্থায় মুখে লাগানাে।

দুই চামচ মধু এবং এক চামচ অর্জুন ছাল মিশিয়ে লাগালে বিশেষ উপকার হবে। মুখের ত্বক উজ্জ্বল করতে ।

একাজে গােলাপের পাপড়ির জুড়ি নেই। প্রতিদিন গােলাপের পাপড়ি দুধের সর দিয়ে বেটে নিয়মিত মুখে মাখতে হবে।

প্রতিদিন সকালে মুখে দই লাগিয়ে কিছুক্ষণ মালিশ করে ২০-২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

আধ চামচ করে অর্জুন, বকুল, বচ, গরম জল দিয়ে মেখে মধু দিয়ে খাওয়া উচিত।

বাসক পাতা, অশােক ও শঙ্খ গুড়াে আধ চামচ করে মুখে মাখা উচিত।

পদ্ম পাপড়ি দশ-পনেরােটি ও দুটি কদমপাতা বেটে লাগানাে উচিত।

Previous
Next Post »